janmastami 2020 - জন্মাষ্টমী 2020

                          
janmastami 2020 -  জন্মাষ্টমী 2020
     
                                 জন্মাষ্টমী 
                                 
                                   সনাতন  ধর্মাবলম্বীদের কাছে ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথি একটি  পবিত্র ও  গুরুত্বপূর্ণ  তিথি  , কারণ  এই  তিথি  তে  ভগবান  শ্রীকৃষ্ণ এই  ধরায় আবির্ভূত  হয়েছিলেন।  মনেকরা  হয়  যে  খ্রীষ্টপূর্ব ৩২২৮ অব্দে ১৯ শে  জুলাই  ভগবান  শ্রীকৃষ্ণের  আবির্ভাব  ঘটেছিল  অর্থাৎ  (৩২২৮+২০১৯ )= ৫২৪৭ তম  জন্ম  তিথি  এই ২০১৯ এর কৃষ্ণাষ্টমী। আবার মতান্তরে  ৩০১০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে  কলিযুগের  সূচনা  হয় এবং  ঐ  দিনেই  ভগবান শ্রীকৃষ্ণ  মানব  শরীর ত্যাগ  করে  গোলকে প্রত্যাবর্তন করেন । তিনি  ১২৫ বছর  ধরাধামে  লীলা  করেছিলেন । তাহলে  দেখা যাচ্ছে  (৩১০১ + ১২৫ + ২০১৯ )=৫২৪৫ বছর  আগে  তিনি  এই পৃথিবীর বুকে  আবির্ভূত  হয়েছিলেন।  অর্থাৎ ২০১৯ এর জন্মাষ্টমী ৫২৪৫ তম  জন্ম তিথি। যাইহোক এটি  সকল  বৈষ্ঞব  সম্প্রদায়  তথা  সনাতন  ধর্মাবলম্বী দের  কাছে  একটি  পবিত্র তম  দিন  এবং  ভারতবর্ষ  ও  বিশ্বের  অন্যান্য অনেক  দেশে  নানান  মাঙ্গলিক   অনুষ্ঠান  এর  মধ্যদিয়ে  এই দিনটি  উদযাপিত  হয়। 

                   শাস্ত্রানুসারে  ভগবান  বিদ্বেষী  অসুরদের  অত্যাচারের  হাত  থেকে  ভক্তদের  রক্ষা করে ধরিত্রীর  ভার  মোচন করার জন্য ভগবান  'শ্রী হরি '  কৃষ্ণ রূপে  ধারায়  আবির্ভুত  হয়েছিলেন।  কংস  জরাসন্ধ  প্রভৃতি ভগবদ  বিদ্বেষী  ও অত্যাচারী  নরপাতি দের ( অসুর ) অত্যাচারে সাধু সন্ত সাধারণ মানুষ তথা  দেবতা গন  ও অতিষ্ঠ  হয়েউঠেছিল , ধরিত্রী দেবী ও এই পাপের  ভার আর  সহ্য  করতে না  পেরে গভীর রূপ ধারণ  করে  প্রজাপতি  ব্রহ্মার  কাছে গিয়ে সমস্ত  অত্যাচারের কথা বর্ণনা দেন  এবং তাকে ,এই  ভার  মুক্ত  করে  সাধু সন্ত  ও সাধারণ  মানুষ দের  রক্ষা  করার কাতর  প্রার্থনা  জানায়। তখন সৃষ্টি কর্তা  ব্রহ্মা  সকল দেবতাদের নিয়ে ক্ষিরোদ সাগরের তীরে গিয়ে শ্রী হারির ধ্যান করে তার নিদ্রা ভঙ্গ করেন এবং এই সৃষ্টি কে রক্ষা করার প্রার্থনা জানান। ভগবান দেবতাদের অভয় দিয়ে  বলেন যে আগে তোমরা সকলে  গোপ গোপী রূপে ব্রজধামে আবির্ভুত হও ,আমি যথাসময়ে কংসের কারাগারে বন্দি বসুদেব পত্নী দেবকীর গর্ভে আবির্ভুত হব। দেবকীর সপ্তম গর্ভে দেব সঙ্কর্ষণ আবির্ভুত হলে ,তাকে দেবীমায় (যোগমায়া ) এর সাহায্যে রোহিণীর গর্ভে  স্থানান্তরিত করে , এবং রোহিণীর গর্ভে দেব সঙ্কর্ষন বলরাম রূপে জন্মগ্রহন করে। পরে ভগবান শ্রী হরি দেবকীর অষ্টম গর্ভে আবির্ভুত হয়ে ভাদ্রমাসের রোহিনী নক্ষত্রে অষ্টমী তিথির মধ্যরাত্রে জন্মগ্রহন করেন। আবার ভগবত মতে ভগবান শ্রী হরি কংসের কারাগারে অষ্টমীর মধ্যরাত্রে চতুর্ভুজে ,শঙ্খ, চক্র ,গদা ,পদ্ম  ধারী রূপে আবির্ভুত হন। বসুদেব ও দেবকীর  কাতর প্রার্থনায় , ভক্ত মনোবাঞ্ছা  পূরণের জন্য দ্বিভুজ সদ্যোজাত মানব শিশু রূপে মাতৃ ক্রোড়ে আশ্রয় নেন।  যাই হোক ,সাধুদের  রক্ষা করা ও অসুর দের বিনাশ করার জন্য ভাদ্র মাসের কৃষ্ণাষ্টমী তিথিতে তিনি এই ধরাধামে অবতীর্ণ হন। 

                      রোহিনী নক্ষত্র যুক্ত নবমী বিদ্ধ অষ্টমী তিথি সর্বোৎকৃষ্ট ও মঙ্গলদায়ক। সারাদিন উপবাসে থেকে ভগবান শ্রী হরির চিন্তন ,মনন ও নামসংকীর্তন এর মধ্যদিয়ে কাটাতে হয়।  মধ্যরাত্রিতে পুষ্প ,পুষ্পমাল্য ,চন্দন ,তুলসী ,মঞ্জুরি ,ক্ষির ,ননী ,ও নারকেল নাড়ু প্রভৃতি ভগবানের প্রিয় ভোগ্য বস্তু সহযোগে বালক গোপালের পূজার্চনা সম্পন্ন করতে হয়। নবমীর প্রাতে ব্রাহ্মণ ,বৈষ্ণব কে প্রসাদ বিতরণ করে তারপর প্রসাদ গ্রহণ করে পারণ করা বিধেয়। 

                      জন্মাষ্টমী ব্রত পালন ও পুজার্চনাদি করলে অলৌকিক কিছু ফল পাওয়া যায়। ভগবান শ্রী কৃষ্ণের কৃপা পাওয়া  যায় ও সংসার মায়া ছিন্ন হয় ও ভব বন্ধন থেকে মুক্ত হওয়া যায়।  মনের সকল অশান্তি ও যন্ত্রনা দূর হয়। মানস চক্ষে ভগবানের বাল্য লীলা সকল উদ্ভাসিত হয় ও দিব্য আনন্দ অনুভূত হয়। 

Post a Comment

0 Comments